Home / জেলার খবর / ভোলাহাট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দূর্ণীতির চিত্র

ভোলাহাট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দূর্ণীতির চিত্র

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
প্রশিক্ষণের অর্থ আত্মসাত, প্রকল্পের নামে হরিলুট, ভুয়া ভাউচারে টাকা উত্তোলন, প্রশিক্ষণার্থীদের শরীরে হাত দেয়াসহ নানা দূর্ণীতি আর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে চাাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার   ভোলাহাট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শ্রী বরুন কুমার পাল ও অফিস সহকারী আঞ্জুমান আরার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কয়েকজন নারী উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ করেছেন বলে জানা যায়।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান রাব্বুল হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, প্রত্যেক কর্মদিবসে উপস্থিত নারী প্রশিক্ষণার্থীদের ১ শত টাকা দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য প্রদাণ করা হয়না। কর্মকর্তা বরুন কুমার পাল আর অফিস সহকারী আঞ্জুমান আরার কথামত না চললে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা হয়। কয়েকজন প্রশিক্ষনার্থী, কর্মকর্তা বরুণ কুমারের বিরুদ্ধে তাদের শরীরে হাত দেয়া এবং অফিস সহকারী আঞ্জুমান আরা তার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেছেন।

একজন প্রশিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রশিক্ষনার্থীদের হাজিরা ২ খাতায় নেয়া হয়। একটা খাতা তার (প্রশিক্ষক) কাছে থাকে, আর একটা খাতা অফিস সহকারী আঞ্জুমান আরার কাছে থাকে।

প্রশিক্ষক জানান, তার কাছে যে হাজিরা খাতা আছে, সেই খাতায় অনুপস্থিত প্রশিক্ষনার্থীকে অফিস সহকারী তার হাজিরা খাতায় উপস্থিত দেখিয়ে টাকা আত্মসাত করেন। এভাবে এপ্রিল ও মে মাসে কোন প্রশিক্ষনার্থীর হাজিরা না থাকলেও টাকা উত্তোলন করে কর্মকর্তা বরুন কুমার ও অফিস সহকারী আঞ্জুমান আরা আত্মসাত করেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আর জানান, তাদের ৩ মাসের বেতন ও বোনাস (ঈদুল ফিতর-২০১৯) অদ্যাবধি তারা পাননি। এজি অফিসে খোঁজ নিলে জানা যায়, ঈদের আগেই সেই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রকল্পের অফিসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙ্গাতে অফিস সহকারী আঞ্জুমান আরা বাধা প্রদাণ করেছেন।

২৪ জুন সোমবার সরেজমিন তদন্তে প্রশিক্ষনার্থীদের দুইটা হাজিরা খাতা ব্যবহার করার সত্যতা পাওয়া যায়। প্রশিক্ষক বেবী খাতুনের নিকট যে হাজিরা খাতা আছে সেই খাতায় জলি খাতুন নামে এক প্রশিক্ষনার্থী সারা মাস অনুপস্থিত কিন্তু জলি খাতুনকে উপস্থিত দেখিয়ে টাকা উত্তোলন সিটে তার নাম দিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

প্রশিক্ষক বেবী খাতুনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, জলি খাতুন নামে কোন প্রশিক্ষনার্থীকে তিনি চিনেননা, জলিকে তিনি কোনদিন দেখেননি।

টাকা উত্তোলন সিটে তাহলে আপনি স্বাক্ষর করেছেন কেন, এই প্রশ্নের উত্তরে বেবী খাতুন জানান, তিনি যা করেছেন, তা অফিস সহকারী আঞ্জুমান আরার নির্দেশে করেছেন।

এদিকে অফিস পরিস্কার-পরিছন্ন করার জন্য মাসিক ১ হাজার টাকা বেতনে এক মহিলাকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়। এই মহিলার ১২ মাসের বেতন ১২ হাজার টাকা কর্মকর্তা বরুন কুমার ও অফিস সহকারী আঞ্জুমান আরা আত্মসাত করেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গোচরে আসলে তিনি অফিস সহকারীকে ডেকে মহিলার বেতনের আত্মসাতকৃত টাকা মহিলার নিকট ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করেন।

এঘটনায় আঞ্জুমান আরা সেই মহিলার বিরুদ্ধে জিডি করে জেল খাটানোর ভয়-ভীতে দেখাচ্ছেন বলে জানা যায়।

এবিষয়ে অফিস সহকারী আঞ্জুমান আরা সকল অভিযোগ অস্বীকার করলে, জলি খাতুন অনুপস্থিত থেকেও কেন তার নামে টাকা উত্তোলন করা হলো, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি প্রতিবেদককে কর্মকর্তা বরুন কুমারের সাথে কথা বলতে বলেন।

অফিস সহকারী আঞ্জুমান আরার সামনেই এক প্রশিক্ষনার্থী তার বাড়িতে কাজ করে নেন বলে অভিযোগ করলে তিনি তার সদুত্তর দিতে পারেন নি।

এ বিষয়ে কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বরুন কুমার পাল বলেন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হবার কারণে সবকিছু দেখার সুযোগ পাননা। অফিস সহকারী যে বিল তৈরী করে দেন, তাতেই তিনি স্বাক্ষর করেন। তবে প্রশিক্ষনার্থীদের গায়ে হাত দেয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

About Tutul Rabiul

Check Also

গোমস্তাপুরে ফারইস্ট লাইফের মৃত্যু দাবীর চেক হস্তান্তর

সংবাদটি পড়া হয়েছে : 58 এমরান আলী বাবু, স্টাফ রিপোর্টারঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!