Wednesday , August 21 2019
Home / সারাদেশ / চিলমারীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা!

চিলমারীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা!

এম.জি.ছরওয়ার:

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলাতে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। বাড়ছে পানিবন্দি ও বন্যার পানিতে ডুবে নিহতের সংখ্যাও দিন দিন ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বন্যার পানিতে ডুবে ৩ শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে চিলমারী উপজেলাতে। গত কয়েক দিনে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ব্যাপক বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার্ত মানুষেরা উঁচু বাঁধ, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শহর রক্ষা বাঁধ গুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে চিলমারী উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। তবে সীমিত আকারে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও অধিকাংশ বন্যার্ত মানুষের ভাগ্যে ত্রাণ জুটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ফলে বানভাসি মানুষ রয়েছেন খাদ্য সংকটে।
বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় প্রবল স্রোতে রাজার ঘাট ব্রীজ, বালাবাড়ী থেকে গাবেরতল ও কাঁচকোল গ্রামীণ পাকা সড়ক ভেঙ্গে পড়ায় যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলা পরিষদ, চিলমারী থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি ঢুকে পড়ায় অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে ভাসছে গোটা উপজেলা প্রশাসনিক ভবন। অপর দিকে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন থেকে রক্ষায় উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল, বেড়ী বাঁধ ও রাজার ভিটা এলাকা সহ রমনা ট্রেন লাইন ভেঙ্গে যাওয়ায় এতে প্রবল বেগে পানি ঢুকে পড়েছে মন্ডলপাড়া, শান্তিনগর, আকন্দপাড়া, সরকারপাড়া, সবুজপাড়া ও চিলমারী থানাহাট বাজার সহ কয়েকটি গ্রাম মুহুর্তেই প্লাবিত হয়ে যায়। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী পরিবারের ঘরে শুকনো খাবার নেই। নেই রান্নার খড়িও। নলকূপ তলিয়ে থাকায় মিলছে না বিশুদ্ধ খাবার পানি। শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ছে বিড়ম্বনা। এদের বেশির ভাগ মানুষই বন্যার পানির মধ্যে নৌকায় ও ঘরের ভেতর মাচান উঁচু করে অতি কষ্টে দিন-রাতযাপন করছেন। শুকনো খাবারের তীব্র সংকটে পড়েছে পানিতে আটকে থাকা পরিবারগুলোর। আর যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু বাঁধ ও পাকা সড়কসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তারাও পড়েছেন নানা দুর্ভোগে। সেই সঙ্গে শত শত মানুষ একসঙ্গে বাঁধ ও পাকা সড়কের দুই ধারে ঝুঁপড়ি ঘর ও পলিথিনের তাঁবু টানিয়ে পরিবার-পরিজন, গবাদিপশু নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এতে করে চিলমারী উপজেলার সমগ্রবাসী পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ। বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গো-খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে বানভাসী মানুষজন। চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের বন্যার পানিতে পানিবন্দী দেড় লাখ মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ফলে দুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলছে। চিলমারী উপজেলাকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি বানভাসি মানুষের। অপর দিকে চরাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী উঁচু বাঁধ ও পাকা সড়কসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম জানান, জরুরী ভিত্তিত্বে শুকনো খাবারের প্রয়োজন। তিনি বলেন, চিলমারী উপজেলার ১লক্ষ ৪৭ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। এমন কোন বাড়ী নেই যে সেখানে পানি ওঠেনি!
উপজেলার প্রায় দেড় লক্ষ পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ত্রাণ পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৫৯৮ পরিবার। ইউপি চেয়ারম্যানরা বলেন, পর্যাপ্ত পরিমান ত্রাণ না পাওয়ায় বেশিরভাগ পরিবার তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কোহিনুর রহমান বলেন, সরকারিভাবে ৬০ মেঃটন চাল, নগদ ২ লক্ষ টাকা ও শুকনা খাবার ১ হাজার ২‘শ প্যাকেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা বিতরণ চলমান রয়েছে।

 

About Tutul Rabiul

Check Also

চিলমারীর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

সংবাদটি পড়া হয়েছে : 27 এম.জি.ছরওয়ার: চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!