Breaking News
Home / সারাদেশ / সমঝোতায় প্যারলে বিদেশ, না হলে কারাগারে খালেদা!
সমঝোতায় প্যারলে বিদেশ, না হলে কারাগারে খালেদা!
ফাইল ফটো-খালেদা জিয়া।

সমঝোতায় প্যারলে বিদেশ, না হলে কারাগারে খালেদা!

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আড়ালে চলছে সমঝোতার চেষ্টা। চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে তার সদিচ্ছা হলেই সমঝোতার মাধ্যমে প্যারল পেতে পারেন। এই বিদেশ যাওয়া ও প্যারলের বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন তার নিকটাত্মীয়রা। আত্মীয়সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা সমঝোতার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। এরইমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারকরা একাধিকবার এই সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়েছে।

স্বজনরা বলছেন, সমঝোতার মাধ্যমে যেকোনো মূল্যে কারামুক্ত করতে চান বিএনপি প্রধানকে। স্বজনদের প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছায়ই নির্ধারিত হবে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এ পথে হাঁটছেন সমঝোতাকারীরা। তাদের মতে, জেলে দীর্ঘদিন থাকার বয়স এখন নেই খালেদা জিয়ার। সরকারের সঙ্গে খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপির সমঝোতার একাধিক প্রচেষ্টা ভেঙে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা এখন এই কৌশল নিয়েছেন। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কেবিনে এনে তাকে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি স্বজনরা ভালো চোখেই দেখছেন। সেখানেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে পারে বলে জানা গেছে।

কারাসূত্র বলেছে, সম্প্রতি সমঝোতার চেষ্টা হিসেবে বিএনপির ৮ নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে ম্যারাথন বৈঠক করেন। সেই বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় চেষ্টা শুরু করেছেন তার স্বজনরা। পরিবারের সদস্যরা এরইমধ্যে কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান সিঁথি মালয়েশিয়া থেকে দেশে এসে দেখা করেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। সেখানে শাশুড়ির সঙ্গে তার আলোচনা হলেও মুখ খোলেননি সিঁথি। এর কয়েকদিন পরই তার মামাশ্বশুর শামীম ইস্কান্দার ও পরিবারের সকলে আবারো কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারা কর্মকর্তা বলেন, বিএনপি নেতাদের দিয়ে সমঝোতা করালে তা দ্রুত ফাঁস হয়ে যায়। এমন আশঙ্কা থেকেই খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি নেতাদের আড়াল করেই একটি মহল সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে। সমঝোতা প্রক্রিয়া, প্যারল- এসব বিষয়ে অন্ধকারে রয়েছেন অধিকাংশ বিএনপি নেতা। এ সকল গোপনীয়তার কারণে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষনেতারা সাক্ষাৎ পান না খালেদার। সাক্ষাতের অনুমতি পেয়েও খালেদার অসুস্থতার অজুহাতে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারের পথ থেকে ফেরত আসতে হয়েছে মির্জা ফখরুল গ্রুপকে।

এদিকে বিএনপি নেতারা বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও এখন বুঝতে পারছেন- পর্দার আড়ালে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। তাই এ নিয়ে শীর্ষ নেতাদের গলার সুর নরম। তবে এ সমঝোতার বিষয়ে সরকারের এক বা একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও আমলা কাজ করছেন এবং তাদের মধ্যে জিয়া পরিবারেরও আত্মীয় রয়েছেন জানা গেছে।

কারাগার ও স্বজনদের একাধিক সূত্র বলেছে, সমঝোতা হলে প্যারল নিয়ে চিকিৎসার জন্য প্রথমে লন্ডনে যেতে পারেন খালেদা জিয়া। সেখান থেকে তিনি অন্য দেশেও যেতে পারেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় অবস্থান করবেন।

সূত্র বলেছে, খালেদা জিয়ার এমনিতেই বয়স হয়েছে। তিনি অসুস্থও। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলে তার জীবন বিপন্ন হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতাদের পাশ কাটিয়ে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মতে, এভাবে একটা মানুষ কষ্ট পেতে পারেন না। এ বয়সে তার নাতনিদের সঙ্গে আরাম-আয়েশে জীবন কাটানোর কথা। সেখানে তিনি জেলে বসে তিল তিল করে মরছেন।

স্বজনরা মনে করেন, খালেদা জিয়া বিএনপির জন্য সব কিছু উজাড় করে দিয়েছেন। নিজের জীবনের সব সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়েছেন। কিন্তু তার দুঃসময়ে বিএনপির কোনো ত্যাগী নেতা উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেনি তার জন্য।

অপরদিকে, সমঝোতা ও প্যারলে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়া পরিবারের এ গোপন চেষ্টা ভালোভাবে দেখছেন না বিএনপির অনেক নেতা। তারা বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। তাদের বিশ্বাস, সমঝোতার মাধ্যমে অসম্মানজনকভাবে কারামুক্ত হওয়ার মানুষ খালেদা জিয়া নন। তিনি এটা মেনে নেবেন না।

তাদের মতে, খালেদা জিয়ার ভাই-বোনরা রাজনীতি করেন না। তারা নির্জন কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে এমন পথে হাঁটতে পারেন। কিন্তু খালেদা জিয়াই শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত নেবেন না। বিষয়টি নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপির শীর্ষ এক নেতা বলেন, ম্যাডামের ভাই-বোনেরা তার কষ্ট দেখছেন, একাকীত্ব দেখছেন, মুক্তির বিষয়টি দেখছেন। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎটি দেখছেন না। সমঝোতার মাধ্যমে মুক্ত হলে তিনি হয়তো কারাগার থেকে বের হবেন, কিন্তু এত দিনের অর্জিত রাজনৈতিক জীবনের অপমৃত্যু হবে।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়াকে আটকে রাখার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো হাত নেই। এটা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। আদালতেই নির্ধারিত হবে তিনি জামিন পাবেন কি না। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি যদি প্যারল চান, সেক্ষেত্রে অবশ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা বিবেচনা করে দেখবে।

এদিকে সোমবার (১ এপ্রিল) দুপুরে খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগার থেকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে ৬২১ নম্বর কেবিনে তার চিকিৎসা শুরু করেছেন মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা। আপাতত সেখানেই থাকছেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে গোপনীয়ভাবে সমঝোতার একটি প্রস্তাব এবং সদিচ্ছা হলে প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। দুএকদিনের মধ্যে এর কিছুটা হলেও আভাস পাওয়া যেতে পারে। তবে প্রক্রিয়াটি গোপনীয়ভাবে হওয়ার কারণে কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমঝোতা না হলে খালেদা জিয়াকে আর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে নেয়া হবে না। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তথ্যানুযায়ী তাকে রাখা হবে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নবনির্মিত অত্যাধুনিক মহিলা কারাগারে। সেখানে মহিলা ওয়ার্ডের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে ভিআইপি মহিলা সেল। নতুন আসবাবপত্রসহ জেল কোড অনুয়ায়ী সব কিছুই রাখা হয়েছে সেই ভিআইপি সেলে। এমনটাই মন্তব্য করেছেন কারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলন ছাড়া এখন অন্য কিছু চিন্তা করছে না দল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে সরকার অন্যায়ভাবে বন্দি করে রেখেছে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশনেত্রীকে কারামুক্ত করব। এর আগে আমরা অন্য কোনো কিছু চিন্তা করছি না, করব না।

সুত্র-দৈনিক জাগরণ।

About Tutul Rabiul

Check Also

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিজিবি কর্তৃক বিএসএফকে মিষ্টি প্রদান

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিজিবি কর্তৃক বিএসএফকে মিষ্টি প্রদান

সংবাদটি পড়া হয়েছে : 35 জাহাঙ্গীর আলম, পত্নীতলা, (নওগাঁ) প্রতিনিধি: বাংলা নববর্ষ-১৪২৬ উপলক্ষে ১৩ এপ্রিল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!