Breaking News
Home / সারাদেশ / হার না মানা এক প্রতিবন্ধী শিমু
হার না মানা এক প্রতিবন্ধী শিমু
হার না মানা এক প্রতিবন্ধী শিমু

হার না মানা এক প্রতিবন্ধী শিমু

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, নওগাঁ প্রতিনিধি:

প্রবল ইচ্ছা শক্তি এবং বাবা-মার অনুপ্রেরণায় নওগাঁ সদর উপজেলার হাপানিয়া ইউনিয়নের দশপাইকা গ্রামের তসলিমা আক্তার শিমু গত ২০১৬ সালে হুইল চেয়ারে বসে উল্লাসপূর কে ইউ আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় পাস করেন। জন্মগতভাবে শিমুর দুটি পা বাঁকা ছিল। ফলে স্বাভাবিক  চলাচলে তিনি পায়ে  কোন শক্তি পান না।

এতকিছুর পরও শিমুর লেখাপড়া থেমে নেই। প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষায়ও ভালো ফল করেছে। ২০১৬ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪.৩০ পেয়েছে।

সে নওগাঁ সদর উপজেলার দশপাইকা গ্রামের তসলিম উদ্দিন মন্ডল ও রুবী বেগমের বড় মেয়ে। বাবা তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই শিমুর দুই পা বিকলাঙ্গ। অনেক কষ্ট করে অন্যের সাহায্যে হাঁটাচলা করে। অন্যের সাহায্য নিয়ে খাওয়াদাওয়া করে। অনেক চিকিৎসা করানোর পরও কোনো কাজ হয়নি।

মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ার পরও লেখাপড়ার প্রতি তার বেশ আগ্রহ। তার আগ্রহ দেখেই আমরা বিদ্যালয়ে পাঠাই মেয়েটিকে। শিমুর মা রুবি বেগম মেয়েটিকে কোলে করে স্কুলে প্রতিদিন আনা-নেওয়া করেন। এভাবে শিমু প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষা দিয়ে ভালো করেছে।

শুধু মাঝের পাঁচটি বছর আর স্কুলে যেতে পারেনি অর্থের অভাবে। বাবা ওয়েল্ডিং মিস্ত্রীর কাজ করে তিন সন্তানকে লেখাপড়ার খরচ চালাতে অনেক কষ্ট হয়। তার পিতা ধার দেনা করে অনেক কষ্ট করে তার জন্য একটি হুইল চেয়ার কিনে দেন।

এরপর মেয়েটিকে উল্লাসপূর কে ইউ আলিম মাদ্রাসায় ভর্তি করান। দাখিল পাশ করলে শিমু বি.এম.সি মহিলা কলেজে নওগাঁয় ভর্তি হয়।

তাসলিমা আক্তার শিমু বলেন, ‘আমি মেয়ে মানুষ চলাফেরা করতে পারি না। এ বিষয় নিয়ে অনেকে অনেক ধরনের কথা বলে। মাঝে মাঝে খারাপ লাগে। তবু মুখ বন্ধ করে তাদের কথা সহ্য করতে হয়। আমি তাদের বলি-আমি কারো সাহায্য ছাড়া নিজে হুইল চেয়ার চালিয়ে বাড়ী থেকে কলেজে নিয়মিত ক্লাস করে কলেজ এর পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফল করব।যত কষ্টই হোক এরপরও আমি পড়াশোনা করবো। আমি লেখাপড়া শেষ করে আর দশটা মানুষের মতো চাকরি করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। আমি যেন সমাজের মুখ উজ্জল করতে পারি। আমার বাবা মার সন্মান যেন রক্ষা করতে পারি।

প্রতিবন্ধী দেখলে কেউ অবহেলা করবেন না। কারণ আমি সেই হাপানিয়া ইউনিয়ন হতে হুইল চেয়ারে বসে দুই হাতের শক্তি কাজে লাগিয়ে, বুকে সাহস নিয়ে মেইন রোড হয়ে কলেজে যাতায়াত করি। কিন্তু কলেজের শিক্ষকেরা আমাকে নিয়মিত আসতে নিষেধ করেছে।তারা সর্বাত্মক সহযোগীতা করতে চেয়েছেন। তাই মাসে ৪/৫ দিন কলেজ করি।

শিমু তার জন্য সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন। তার হুইল চেয়ারটি পুরাতন হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশংকা করছে শিমু। তিনি বিত্তমানদের নিকট একটি উন্নতমানের হুইল চেয়ার সাহায্য প্রার্থনা করেন।

শিক্ষা গ্রহণ শেষে শিমু ভাল একটা চাকুরি করে বাবা মায়ের দুঃখ ঘোঁচাতে চান।

শিমুকে সাহায্য করতে চাইলে তিনি তার পিতার ০১৭৫৭-৬৪৪৫০১ (বিকাশ) নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছেন।

 

About Tutul Rabiul

Check Also

পত্নীতলায় নির্মইল ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট ঘোষণা

পত্নীতলায় নির্মইল ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট ঘোষণা

সংবাদটি পড়া হয়েছে : 32 জাহাঙ্গীর আলম, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নির্মইল ইউনিয়ন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!