Breaking News
Home / ফিচার / ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন শিশুর জীবন করো রঙিন’
'বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন শিশুর জীবন করো রঙিন'

‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন শিশুর জীবন করো রঙিন’

‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন শিশুর জীবন করো রঙিন
আজমাল হোসেন মামুন
১৭ মার্চ সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস-২০১৯। আমাদের দেশে একই সঙ্গে দুটি দিবস পালন করা হয়ে থাকে। কারণ, পৃথিবীতে প্রথম শিশু দিবস পালিত হয় ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ এপ্রিল তুরস্কে । সে বছরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়: ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন শিশুর জীবন করো রঙিন’।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের খুবই আদর করতেন, স্নেহ করতেন, ভালোবাসতেন। শিশুদের নিয়ে তাঁর গভীর স্বপ্ন ছিল । তিনি বিশ্বাস করতেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের জাতির কর্ণধার। একদিন এ শিশুরাই দেশ গড়ার নেতৃত্ব দিবে ।
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে দীর্ঘ ৯ মাস পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করার পর এ দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ২৪ বছর রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে ১৩ বছর ৯ মাস অর্থাৎ প্রায় ১৪টি বছর কারাবন্দি থেকেছেন। জেল নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, কারা প্রাচীরের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ৫১১০টি দিন অতিবাহিত করেছেন। তিনি তাঁর জীবনে শ্রেষ্ঠ সময় কাটিয়েছেন কারান্তরালে। যৌবনের সুন্দর দিনগুলো যিনি উৎসর্গ করেছেন দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বিশ্বের অন্যতম রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব। শুধু বাংলাদেশের মানুষের কাছে নয়, বিশ্বের অন্যতম রাষ্ট্রনায়ক, নেতা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও মনীষীদের কাছে ছিলেন প্রিয়পাত্র।
১৭ মার্চ বাঙালির সবচেয়ে আনন্দের দিন। ভালোবাসার দিন। কারণ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, স্বাধীন রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দিনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জীবনের পুরো সময় কেটেছে সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। সংগ্রামী নেতা হিসেবে যেমন অর্জন করেছে সাফল্য, তেমনি বিশ্বের সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের দরবারে ঠাই করে নিয়েছে , তিনি হলেন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। সেজন্য পৃথিবীর মানচিত্রে বাঙালির আবাসভূমি বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু বেঁচে না থাকলেও পৃথিবীর ইতিহাসে অমর তথা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। সকল ধর্মের মানুষ তাঁর জন্য প্রার্থনা করে। তাই বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা রয়েছে প্রতিটি বাঙালির। তাঁকে নিয়ে যত গান, কবিতা, কাব্য, প্রবন্ধ ও গল্প রচিত হয়েছে ;,আর কোন রাজনীতিবিদকে নিয়ে তত লেখালেখি হয়নি । জাতির জনকের কাছে বাংলাদেশের সকল মানুষ ঋণি। কারণ, তাঁর জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না। আজও বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দী থাকতে হতো।
বঙ্গবন্ধু শিশুকালে খুব দুরন্ত ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্যে সময় কাটাতেন তিনি। বন্ধুরাও বঙ্গবন্ধুকে খুব ভালোবাসত। জাতির পিতা শিশু থেকে একদিন মহান ব্যক্তি হয়েছেন।ঠিক আজকের শিশুরাও একদিন তাঁর আদর্শকে লালন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবেন। শিশুরা তাঁদের জীবনকে একদিন রঙিন করবে। কারণ শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার, আলোর পথের যাত্রী। একদিন এরাই কর্ম ও চারিত্রিক দৃঢ়তা দিয়ে দেশ ও সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে।শিশুদের পরিপূর্ণভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ আনন্দদায়ক সুস্থ পরিবেশ, যেখানে তারা পাবে পারস্পারিক স্নেহ, ভালবাসা, সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধ।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর জীবন করো রঙিন। মহান নেতার জন্মদিনে রইল তাঁর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিনম্র শ্রদ্ধা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
লেখক:
সহকারী শিক্ষক
হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

'বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন শিশুর জীবন করো রঙিন'

About Tutul Rabiul

Check Also

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে ভুট্টার চাষ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে ভুট্টার চাষ

সংবাদটি পড়া হয়েছে : 63 নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা বোরো চাষ কমিয়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!