Breaking News
Home / জেলার খবর / চাঁপাইনবাবগঞ্জ কোর্ট ও পৌর এলাকায় বাল্যবিবাহ পড়ানোর অভিযোগ!
নবাববার্তায় নিউজ প্রকাশের পর ২দিনে ২টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করলো উপজেলা প্রশাসন
ফাইল ফটো

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কোর্ট ও পৌর এলাকায় বাল্যবিবাহ পড়ানোর অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কোর্ট ও পৌরসভা এলাকায় শক্তিশালী সিন্ডিকেট করে বানিজ্যিক ভিত্তিতে বাল্যবিবাহ সম্পাদন ও নিবন্ধন করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলাধীন চর অনুপনগর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী মোঃ মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে ”কাজী-মহরিল-ভেন্ডার” সিন্ডিকেট করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বাল্যবিবাহ সম্পাদন ও নিবন্ধন করে আসছে। সিন্ডিকেটভুক্ত অন্যান্য সদস্যরা হলেন যথাক্রমে  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানাধীন হুজরাপুর মহল্লার কাজী দুরুল আলম, ইসমাইল ওরফে হিরা ও মোহাম্মদ আলী, তাহেরপুর মহল্লার আবু বাক্কার, কোর্ট এরিয়ার স্ট্যাম্প ভেন্ডার মাওলানা আজিজুল হক, রামকৃষ্টপুর মহল্লার ইকবাল মহুরী ও দক্ষিন চরাগ্রাম মহল্লার আব্দুর রহমান মহুরী, মহিপুর-সাহাপুর গ্রামের নিয়ামত আলী এবং গোমস্তাপুর থানাধীন রহনপুর রহমতপাড়া মহল্লার কাজী মনিরুজ্জামান মনির।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার যেসব বাল্য বিবাহ উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিগন বন্ধ করেন এবং নিকাহ রেজিস্ট্রার ও মসজিদের ইমামগন সম্পাদন ও নিবন্ধন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন সেইসব বাল্যবিবাহ দীর্ঘদিন যাবৎ এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৫-১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সম্পাদন ও নিবন্ধন করা হয়। প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে এসব বাল্যবিবাহ জেলা আইনজীবি সমিতি ভবন, এডভোকেট চেম্বার, সিন্ডিকেট সদস্য কাজী দুরুল আলমের হুজরাপুর কাজী অফিস, সিন্ডিকেট সদস্য স্ট্যাম্প ভেন্ডার মাওলানা আজিজুল হক এর কোর্ট এরিয়ার বাসভবন, পুলিশ লাইন সংলগ্ন তাহেরপুরে আবুবাক্কার এর বাসভবন এবং নবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে সম্পাদন ও নিবন্ধন করা হয়।
পৌর এলাকার জনৈক রফিকুল ইসলাম জানান, জেলা রেজিস্ট্রার বরাবরে হুজরাপুরের কাজী দুরুল আলমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট  বাল্যবিবাহ নিবন্ধনের লিখিত অভিযোগ এবং কাজী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ করেও অদ্যবধি কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
এদিকে জেলা রেজিস্ট্রার এবং প্রশাসনের কাছে বাল্যবিবাহের কোনরুপ তথ্য না থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুল বারী’র ফেসবুক স্টাটাস থেকে জানা গেছে, জেলায় অনুষ্ঠিত বিবাহের প্রায় অর্ধেকই নিবন্ধন অ-যোগ্য ও বাল্যবিবাহ।
জেলা কাজী সমিতির সভাপতি কাজী সেতাউর রহমান অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লাইসেন্সের কার্যকরিতা না থাকাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এই সিন্ডিকেটের হোতা কাজী মোজাম্মেল হক এবং তার সহযোগী কাজী দুরুল আলমকে সমিতি থেকে ইতিমধ্যে  বহিস্কার করা হয়েছে। বহিস্কার করার পর তারা ”জেলা নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী কল্যাণ ফান্ড” গঠন করেছেন এবং এই কাজী কল্যাণ ফান্ডের সভাপতি কাজী মোজাম্মেল হক কাজী কল্যান ফান্ডের আড়ালে থেকে বাল্য বিবাহ ও অবৈধ বিবাহ সম্পাদন ও নিবন্ধন করে মোটা অংকের অবৈধ অর্থ উপার্জন করছেন। ফলে একদিকে সরকারের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে, অন্যদিকে এসব বিবাহ নিবন্ধন করতে না পাওয়ায় বৈধ নিকাহ রেজিস্ট্রারগন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
শক্তিশালী এই সিন্ডিকেটভুক্ত ভুয়া কাজী মনিরুজ্জামান, আবুবাক্কার ও ইকবাল মহুরীর বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে এবং আবু বাক্কার ও ইকবাল এখন কারাগারে আটক রয়েছে। সদর মডেল থানা পুলিশ তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছেন। স্ট্যাম্প ভেন্ডার আজিজুল হককে একবছর আগে ভ্রাম্যমান আদালত বাল্যবিবাহ পড়ানোর অপরাধে এক মাসের দন্ড দিয়েছিলো।
কাজী মোজাম্মেল হক ও আজিজুল হককে কোর্ট চত্বরে দেখা গেলেও তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার আলী আকবর এর সংগে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, খুব শীঘ্রই এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

About Tutul Rabiul

Check Also

৬নং রানিহাটী ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় খাবার পানির সংকট

৬নং রানিহাটী ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় খাবার পানির সংকট

সংবাদটি পড়া হয়েছে : 29 জারিফ হোসেনঃ চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় অবস্থিত ৬নং রানিহাটী ইউনিয়নের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!