Sunday , February 24 2019
Home / ফিচার / আমরা বেঈমান নই
আমরা বেঈমান নই
ছবি-সংগৃহিত

আমরা বেঈমান নই

এস, আই জাহিদঃ

ভারী অস্ত্র আর ট্যাঙ্কের সামনে থ্রি নট থ্রি রাইফেল দিয়ে স্বাধীনতার প্রথম প্রতিরোধ করেছিল বাংলাদেশ পুলিশ। আটশতাধিক পুলিশ সদস্য শহীদ হয়েছিলেন হায়েনাদের প্রতিরোধ করতে গিয়েই। কোন বাহিনীর এত সংখ্যক সদস্য একদিনে শহীদ হননি কখনই। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশের তালিকায় ছিলো ডিআইজি, এসপি পদমর্যাদার অনেক অফিসার ।

কিন্তু অদৃশ্য কারনে পুলিশের কেউই বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পাননি। এমনকি বীরউত্তম খেতাবও দেয়া হয়নি। চার দশক পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদান ছিল উপেক্ষিত।২০১১ সালে পুলিশকে দেয়া হয় স্বাধীনতা পদক। পুলিশের বীর শহীদ কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়েছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী জাতির আরেকটা ক্রান্তিকাল ১৫ ই আগস্ট, ১৯৭৫। সেদিন জাতির পিতাকে যখন হত্যা করা হয় সেই ভোররাতে পিজিআর সদস্যরা অস্ত্র হাতে আত্মসমর্পণ করেছিলো। কিন্তু ধানমন্ডি ৩২ নম্বর আক্রান্ত হলে দায়িত্বরত পুলিশ আত্নসমর্পন না করে গুলি ছুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ঘাতক সেনাদের গুলিতে ঘটনাস্থলে শহীদ হন পুলিশের এ এস আই ছিদ্দিকুর রহমান। গুলিবিদ্ধ হন পুলিশের ডিএসপি অফিসার নুরুল ইসলাম খান। সব পুলিশ সদস্যকে বন্দী করে অস্ত্র কেড়ে নেয় ঘাতকেরা। কিন্তু কোন পুলিশ সদস্যের গুলিতে রক্তাক্ত হয়নি বঙ্গবন্ধুর বুক। কিন্তু এই আত্নত্যাগও ইতিহাসে উপেক্ষিত অদৃশ্য কারনেই।

বাংলাদেশের জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত যতজন পুলিশ সদস্য আহত নিহত হয়েছেন জনগণের জান মালের নিরাপত্তায়, তা আর কোন সার্ভিসের সদস্যের ক্ষেত্রে হয়নি যারা জনগণের পয়সায় বেতন নেন। ২০১৩-১৪ সালের সন্ত্রাস কিংবা হলি আর্টিজন সহ সকল অগণতান্ত্রিক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়ছে এই পুলিশকে সামনে থেকে বুক চিতিয়েই। এই পুলিশ আর যাইহোক গর্ব করেই বলতে পারি “আমরা বেঈমান নই”।

লেখক- সাব-ইন্সপেক্টর, জেলা ডিবি পুলিশ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

 

About Tutul Rabiul

Check Also

এ্যাডভার্টাইজিং ফার্ম

সাংবাদিকগণের বিজনেস-এ্যাডভার্টাইজিং ফার্ম

সংবাদটি পড়া হয়েছে : 209 কবিরুল ইসলাম (কবির): ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্র্যান্ডিং সচেতন তাই সৃষ্টিশীল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!