Thursday , December 13 2018
Breaking News
Home / ফিচার / ব্রেকআপ পরবর্তী বিষন্নতা কাটিয়ে উঠুন!
ব্রেকআপ পরবর্তী বিষন্নতা কাটিয়ে উঠুন!
ব্রেকআপ পরবর্তী বিষন্নতা কাটিয়ে উঠুন!

ব্রেকআপ পরবর্তী বিষন্নতা কাটিয়ে উঠুন!

বিয়ে আধুলির এক পিঠ যার অপর দিকেই আছে বিয়ে বিচ্ছেদ, ডিভোর্স এর পর লোকের কটু কথায় মুষড়ে পড়েন অনেকেই, খুব হতাশ হয়ে পড়েন, দুশ্চিন্তা আর বিষণ্ণতায় ভুগেন। নির্ঘুম রাতে কেউ বা আত্মহত্যার কথা ভাবেন। আবার কেউ কেউ চটজলদি সমাধান খুঁজতে গিয়ে তাড়াতাড়ি করে ফেলেন দ্বিতীয় বিয়ে, যা কিনা আরও অনেক বড় ভুল। ব্রেকআপের পর বিষণ্ণতা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপনের পদ্ধতি জানবেন এই লেখাটিতে।

১। লোকের কথায় কান দেওয়া বন্ধ করুনঃ লোকে আপনার জীবন চালায় না, লোকে আপনার জন্যে কিছুই করে না। আপনি যখন কষ্ট পাচ্ছিলেন, কেউ আপনাকে বাঁচাতে আসেনি, ভবিষ্যতেও আসবে না। তাহলে লোকের কোথায় কান দেওয়ার প্রয়োজন কী? তালাকের পর লোকের কথায় কান দিলে বোকার মতো কেবল নিজের কষ্ট বাড়াবেন, অন্যদিকে বাড়তে থাকবে ভুল সিদ্ধান্তের তালিকা।

২। আপনার আশেপাশের মানুষদের প্রাধান্য দিনঃ আপনাকে ছেড়ে একজন চলে গেছে, কিন্তু এখনো রয়ে গেছে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয় আর বন্ধুরা। তাদের সময় দিন। পুরানো সম্পর্কগুলোকে নতুন করে ঝালিয়ে নিন। সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করুন, দেখবেন আপনার বিষণ্ণতা দূর হয়ে গেছে নিজের অজান্তেই।

৩। অতীতে কোনো সুখ লুকিয়ে নেইঃ অতীত নিয়ে নিজের মনে নাড়াচাড়া বন্ধ করুন। যা গেছে তা গেছেই, শত মাথা কুটলেও আর কোনো দিন ফিরবে না। সেগুলো নিয়ে ভাবতে গেলে কেবল কষ্টের বোঝাই ভারী হবে। যতই মধুর স্মৃতি হোক, মনের এক গোপন কুঠুরিতে তালাবন্ধ করেদিন চিরকালের জন্য।

৪। অতীত ভুলে যাওয়ার জন্য নিজের উপর চাপ সৃষ্টি করবেন নাঃ ব্রেকআপ এর পর অনেকেই অতীতকে দ্রুত ভুলতে চান, যা হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। সময় নিন নিজেকে সামলানোর। মনে রাখবেন আপনার এই কষ্টের অনুভূতি খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার।

৫। নিজেকে ও তাকে ক্ষমা করুনঃ যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, আপনারা আর একসাথে নেই। হয়তো এটাই নিয়তি ছিল। নিজেকে ক্ষমা করতে চেষ্টা করুন, ক্ষমা করে দিন তাকেও। কেবল তাতেই আপনার অতীতের সাথে শান্তি স্থাপিত হবে।

৬। অন্যের মাঝে আশ্রয় খুঁজবেন নাঃ তালাক হয়ে গেছে মানেই আপনাকে আর্থিক, মানসিক বা সামাজিকভাবে অন্যের ওপরে নির্ভর করতে হবে–ব্যাপারটা মোটেই তেমন নয়। বিয়ে ভাঙা একটি সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান রেখে স্বনির্ভর হয়ে উঠুন। মনে রাখবেন, বিপদের দিনে কেউ আপন না। তাই অন্যকে নিজের দুঃখের কাহিনী শোনাতে যাবেন না। নিজের বাচ্চাদের দায়িত্ব নিজে নিন, নিজের আবেগী দায়িত্বও নিজে নিন। নিজের আর্থিক ও সামাজিক ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে নিতে চেষ্টা করুন।

৭। দ্রুত বিয়েতে নাঃ তালাক মানেই চটজলদি আরেকজন জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়া? এই ভুল করতে যাবেন না মোটেও। কেননা জীবন আবার একই পথে ফিরে যাবে। দ্বিতীয় বিয়ে করা উচিত অনেক বেশি ভেবে-চিন্তে।

৮। ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্কটি তৈরি হবার আগের অবস্থানে নিজেকে নিয়ে যানঃ বিয়ের আগে যেভাবে জীবন যাপন করতেন নিজেকে সেই অবস্থানে নিয়ে যান। স্বাভাবিক রুটিন অনুসরণ করুন। প্রথমদিকে এটি করা বেশ কষ্টকর হবে। তবে কিছুদিন পর উপলব্ধি করবেন আপনি ফিরে গেছেন স্বাভাবিক জীবনে।

৯। স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূলঃ শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এমন সময়ে নিজের শরীরের খেয়াল রাখা জরুরি। বিষণ্ণতায় নিজেকে অবহেলা করবেন না। স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে গেলে আপনার বিষণ্ণতা ও ঝামেলা বাড়বে বই কমবে না। তাই নিজের দিকে খেয়াল করুন, নিজেকে যত্ন করুন, নিজের দিকে মনোযোগ দিন। মানসিকভাবেও অনেক ভালো অনুভব করবেন।

১০। নতুন সূচনাঃ একটি অধ্যায় শেষ মানেই অন্য একটি অধ্যায়ের শুরু। সেই শুরুটা করা চাই প্রথম থেকে। জীবন মানে কেবল প্রেম, বিয়ে , সংসার না। জীবনের মানে আরও অনেক বিশাল কিছু। তাই বিয়ের সম্পর্ক ফুরিয়ে গেছে মানেই আপনার জীবন শেষ না। জীবনকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা করুন। সেই পরিকল্পনাই আপনাকে বেঁচে থাকার শক্তি যোগাবে।

সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ছাড়া সম্পর্ক তৈরি হয় না বা ভাঙ্গে না। আর সৃষ্টিকর্তা কখনোই চান না তাঁর সৃষ্টি কষ্ট পাক। তাই নিশ্চিন্তে থাকুন, আপনার জন্য উপযুক্ত মানুষটির সাথে সম্পর্ক তৈরি হবার জন্যই অতীতের সম্পর্কটি ভেঙ্গে গেছে তাই নিজেকে ভালবাসুন, জীবনকে ভালবাসুন। সুখ ফিরে আসবেই!

About Tutul Rabiul

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!