Wednesday , November 21 2018
Breaking News
Home / জেলার খবর / ধ্বংসের মুখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁসাশিল্প
ধ্বংসের মুখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁসাশিল্প
ধ্বংসের মুখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁসাশিল্প

ধ্বংসের মুখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁসাশিল্প

টুটুল রবিউলঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী কাঁসাশিল্প নানা সংকট আর সমস্যায় মুখথুবড়ে পড়েছে। কাঁসাশিল্প সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের এখন দুর্দিন। একসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কাঁসাশিল্পটি মসলিন কাপড়ের মতো বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল। শুধু তা-ই নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নত মানের কাঁসার বাসন-কোসনের কদর ছিল মোগল আর ব্রিটিশ রাজপরিবারেও। কিন্তু কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ভারতীয় আগ্রাসন আর পুঁজির অভাবসহ স্বল্পমূল্যে প্লাস্টিক পণ্যসামগ্রী ব্যবহারে এ শিল্প মুখথুবড়ে পড়ছে।

বিবিধ কারণে কালের বিবর্তনে কাঁসাশিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। অসংখ্য পরিবার জড়িয়ে ছিল এই শিল্পের সাথে। বংশ পরম্পরায় চলে আসা এ পেশাটি এখন ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে অনেক পরিবার।

এখন কাঁসাশিল্পের জৌলুস অনেকটাই হারিয়ে গেছে। সীসা, মেলামাইন, প্লাস্টিক, সিরামিক আর কাঁচের তৈজসপত্রের ভিড়ে কাঁসার প্রচলন হারিয়ে যাচ্ছে। এখনো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে আগের মতো কাঁসার তৈজসপত্রের কদর বিদ্যমান। দেশে-বিদেশে কাঁসার বাসন-কোসনের বিপুল চাহিদা রয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার, এমনকি রপ্তানি উদ্যোক্তার অভাবে শিল্পটি এখন বিলুপ্তির পথে। তা-ই শিল্পীদের পুঁজির অভাব, কারিগর সংকট, ভারতীয় আগ্রাসন ও কাঁচামালের দুষ্প্রাপ্যতায় কোনোভাবে টিকে থাকা ঐতিহ্যবাহী কাঁসাশিল্প পড়েছে বিপর্যয়ের মুখে।

কাঁসাশিল্পীরা জানান, কাঁসার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত তামা আর রাংয়ের (টিন এ্যাংগট) দুষ্প্রাপ্যতা এই শিল্পকে সংকটের মুখে দাঁড় করেছে। তামা দেশে কম-বেশি পাওয়া গেলেও রাং আমদানি করতে হয় মালয়েশিয়া থেকে। এ ছাড়া, বেড়েছে কয়লার দামও। সর্বোপরি ভারতে মেশিনে তৈরী চোখ ধাঁধানো নকল পণ্য একটি চক্রের মাধ্যমে অবৈধ পথে দেশে প্রবেশ করে দেশীয় কাঁসা শিল্পের বাজার দখল করে নিয়েছে। আর এসব কারণে টিকে থাকতে পারছে না দেশীয় কাঁসাশিল্প। ফলে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে অনেক কাঁসাশিল্প সংশ্লিষ্ট পরিবার। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁসারি পল্লিতে, আগেও যেখানে ছিল ১০০টি কাঁসা কারখানা। এখন নানা সংকটের কারণে টিকে আছে মাত্র ২৫-৩০টি কারখানা। হাঁটি হাঁটি পা-পা করে যে কয়টি কারখানা টিকে রয়েছে, তা-ও হুমকির মুখে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কাঁসাশিল্পের টিকে থাকা রাহাদ মেটাল স্টোর মালিক সোহেল রানা দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে বলেন, বগুড়ার চাঁদনী বাজারের সাথী বাসুণালয় এর মালিক শ্রী আনন্দ চন্দ্র দাস অবৈধভাবে ভারতীয় নকল কাঁসার মেশিনে তৈরী বিভিন্ন পণ্য বাজার দখল করে ফেলেছে। ওজনে হালকা, দেখতে আকর্ষণীয় ও সস্তা মুল্যের কারণে ক্রেতারা সেদিকেই ঝুঁকছে। যার ফলে আমরা বাজার হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। অবৈধ পথে আসা ভারতীয় কাঁসা পণ্য বন্ধ না হলে অচীরেই দেশীয় কাঁসাশিল্প কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে। এবিষয়ে তিনি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এ জেড এম নুরুল হক বলেন, ‘কাঁসাশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের সহায়তার চেষ্টা চলছে। তাদের সরকারি সহায়তা করা হলে একদিকে, শিল্পটি পুনরুজ্জীবিত হবে, অন্যদিকে কাঁসাশিল্পের ঐতিহ্য ফিরে আসবে। খুব শীঘ্রই কাঁসার কারিগরদের প্রশিক্ষণের জন্য সরকার চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকার সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, শুল্কমুক্ত রাং বা আমদানির উদ্যোগ, ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এমন কি দেশীয় কাঁসাশিল্প বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নিলে একমাত্র ঐতিহ্যবাহী এই কাঁসাশিল্পটি টিকে থাকবে, অন্যথায় শিল্পটি মসলিন শিল্পের মতো এক সময় কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে।

About Tutul Rabiul

Check Also

র্র্যাবের সুনাম ক্ষুন্নকারী কে এই আলী নবী!!

র্র্যাবের সুনাম ক্ষুন্নকারী কে এই আলী নবী!!

সংবাদটি পড়া হয়েছে : 503 নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলায় এক মুর্তিমান আতংকের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!