Wednesday , November 21 2018
Breaking News
Home / সারাদেশ / গোদাগাড়ীতে ৩শ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ইব্রাহিম! নিরাপদে ঘুরছে ওবাইদুল্লাহ
গোদাগাড়ীতে ৩শ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ইব্রাহিম! নিরাপদে ঘুরছে ওবাইদুল্লাহ
গোদাগাড়ীতে ৩শ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ইব্রাহিম! নিরাপদে ঘুরছে ওবাইদুল্লাহ

গোদাগাড়ীতে ৩শ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ইব্রাহিম! নিরাপদে ঘুরছে ওবাইদুল্লাহ

রাজশাহী সংবাদদাতা:

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রায় ৩শ কোটি টাকা নিয়ে ইবরাহীম নামে এক জন প্রতারক লাপাত্তা। জনতার হাতে আটক তার বোন ও দুলাভাই। ইবরাহীম তার বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে এলাকার সরল সহজ মানুষদের নিকট থেকে ইটভাটায় বিনিয়োগের নাম করে ইট দিব বলে তিন মাস পর পর ১০/২৫ হাজার টাকার ইট বা লভ্যাংশ দিবে বলে একেক জন থেকে ১/৫০ লক্ষ পর্যন্ত টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করে। এরই মাঝে যখন টাকার অংক খুবই বৃদ্ধি পায় তখন সে এক পর্যায়ে এসব অর্থ নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। এলাকার লোক চেয়ে থাকে তার দিকে এই বুঝি আসছে টাকা দিবে। কিন্তু বিধিবাম। গত ঈদে কুরবানী পর্যন্ত অনেকেই দিতে পারেনি বলে জানা যায়। এদিকে ইবরাহীমের বাড়ীতে তার বৃদ্ধ মাতা, স্ত্রী, ছেলে ও কাজের ছেলে বসবাস করে। এদেরকে এলাকার লোকজন বাড়ীতে তালা দিয়ে আটকিয়ে রাখে। কিছু দিন পর ইবরাহীম টাকার দাপট দেখাতে শুরু করে। ২৬ আগষ্ট চাচা হাসান আলীর সহযোগিতায় র‌্যাব-৫ এর লোকজন এসে তার গৃহবন্দী পরিবারের লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীদের ফাঁসানোর হীন উদ্যেশে তার বোন উম্মে সালমাকে ইবরাহীমের চাচা আলহাজ্জ হাসান আলী ও গোদাগাড়ী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওবাইদুল্লাহ মাষ্টারের পরামর্শে বাড়ীর পিছনের জানালার গ্রিল ভেঙ্গে মালামাল বস্তাবন্দী করে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ীতে রাখতে বলে। এমন দৃশ্য এলাকার লোকজন দেখতে পেয়ে উম্মে সালমানে আটক করে যে বাড়ীতে মালামাল রাখছিল সে বাড়ীতেই বন্দি করে রাখে। খবর পেয়ে উম্মে সালমার স্বামী বারুইপাড়া গ্রামের মৃত. আব্দুল হাই এর ছেলে রেজওয়ানুল হক (ইবরাহীমের দুলাভাই)। ঘটনাস্থলে আসলে ভুক্তভোগী গ্রামবাসী তাকেও আটকিয়ে রাখে। উম্মে সালমা ও তার স্বামীকে আটকের একদিন পার হয়ে গেলেও পুলিশকে খবর দিলে রহস্যজনক কারণে ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রশাসনের কেউ উপস্থিত হয়নি। পরে ৬ তারিখ সন্ধ্যায় র‌্যাব-৫ এর দুইটি গাড়ী এসে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এদের আটকিয়ে রেখে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে না এসে তাদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করে।

মহিশালবাড়ী গ্রামের সানাউল্লাহর ছেলে আসাদুল (৫৬) জমি ও ডিহি মাটি বিক্রয় করে এম.এস.বি ও বি.বি.এফ ভাটার ইটের নাম করে ৭ লক্ষ টাকা দেয়। মহিশালবাড়ী গ্রামের মোশাররফ (২২) ট্রাক্টর চালক কয়েকজনের নিকট থেকে টাকা তুলে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ইবাহীমকে দেয়। উপজেলার সুলতানগঞ্জ, মাধবপুর, লালবাগ, সারাংপুর, রেলবাজর, মাটিকাটা, ডাইংপাড়াসহ পুরো এলাকার, চাকুরিজীবি, কৃষক থেকে শুরু করে সকলের নিকট থেকে অতি স্ক্ষ্মুভাবে ভালো ব্যবহার দেখিয়ে প্রায় ৩শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মহিশালবাড়ী গ্রামের ইবরাহীম।

ভুক্তভোগীরা জানায় ইবরাহীম যখন মাস শেষে এলাকার সবাইকে লভ্যাংশের অংশ দিতে আসত তখন বস্তায় ভরে টাকা আনত। কাউকে কাউকে খুশি হয়ে মিষ্টি খাওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে দিত। কে জানে তার এত সুন্দর ব্যবহারের মধ্যে রয়েগেছে ঘৃণ্য অর্থ কেলেঙ্কারী? তার সুন্দর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তারা হালের বলদ বিক্রয় করে টাকা দিয়েছে ইবরাহীমকে। আর তাই এর খেসারত দিতে হচ্ছে গোদাগাড়ী উপজেলার হাজার হাজার পরিবারকে। অর্থ কেলেঙ্কারীর এমন ঘটনা গোদাগাড়ীতে এখন টক অপদা টাউনে পরিণত হয়েছে। এলাকায় এখন এ বিষয়টির নাম দিয়েছে রাবার ব্যাংক নামে।

পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাচারিপাড়া গ্রামের মৃত জিল্লার রহমানের ছেলে ওবাইদুল্লাহ কাউন্সিলরের ৪টি ভাটায় ইবরাহীমের ২৫% শেয়ার আছে বলে জানা যায়। ইবরাহীমের এসব অর্থ কেলেঙ্কারীর মাঝে ওবাইদুল্লাহ কাউন্সিলরও জড়িত বলে ভুক্তভোগীরা জানান। মহিশালবাড়ী গ্রামের ভুক্তভোগী এক যুবক বলেন এম.এস.বি বিক্সস নামে চাঁপাই নবাবগঞ্জের চর ইসলামপুর গ্রামে ১শ ২১ বিঘা জমির উপর বাগান করে খাচ্ছে ওবাইদুল্লাহ। ডাইংপাড়ায় ফ্রিজের দোকানটিও তার। ক’দিন আগে সুলতানগঞ্জ স্ট্যান্ডের বড় মার্কেটটি ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দিয়ে কিনে নেয় ওবাইদুল্লাহ মাস্টার। এছাড়াও রাজশাহীতে বাড়ী, বরেন্দ্রাঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় মাটি ক্রয়, এলাকায় দাপটের সাথে চলাফেরা এসবই বলে দেয় তিনি রাতারাতি এত পরিমাণ টাকার মালিক কিভাবে হলেন তিনি? জানা যায় মহিশালবাড়ী গ্রামের আল আমিন আত্মীয়-স্বজন মিলে ৮৫ লক্ষ টাকা প্রদান করেন তার মধ্যে ১২ লক্ষ টাকা সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে ওবাইদুল্লাহ কাউন্সিলর নিজ হস্তে তাকে প্রদান করেছেন।

About Tutul Rabiul

Check Also

ফখরুল-রিজভী দ্বন্দ্ব কোন পথে!

সংবাদটি পড়া হয়েছে : 36 নবাববার্তা ডেস্কঃ দীর্ঘদিন ধরেই মির্জা ফখরুল ও রিজভীর মধ্যে দ্বন্দ্বের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!