Wednesday , November 21 2018
Breaking News
Home / শিক্ষা / জেএসসি পরীক্ষা-২০১৮
আজমাল হোসেন মামুন, সহকারী শিক্ষক, হরিমোহন সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়
আজমাল হোসেন মামুন, সহকারী শিক্ষক, হরিমোহন সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়

জেএসসি পরীক্ষা-২০১৮

বিষয়: বাংলা প্রথম প্রত্র

আজমাল হোসেন মামুন
সহকারী শিক্ষক, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

আজ অতিথির স্মৃতি’ গল্প থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তরসহ ছাপা হলো।

১। ১২ বছর বয়সী মিল্টন একদিন ঝড়ের রাতে রাস্তা থেকে একটি বিড়াল তুলে এনেছিল। সেই থেকে বিড়ালটিকে খুবই যত্মসহকারে সে বড় করে তুলেছে। হঠাৎ সে খুবই চিন্তিত। কারণ, তার পোষা বিড়ালটি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।  সে বিড়ালটির জন্য ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করছে না। বিড়ালের প্রতি তার এ কা- দেখে বাবা বললেন, ‘জীবে প্রেম করে যেই জন সে জন সেবিছে ঈশ্বর’।

ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক লাভ করেন?

খ  কুকুরটি ভেতরে ঢোকার ভরসা পেলনা কেন?

গ. ‘প্রতিটি প্রাণিরই মানুষের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাবার অধিকার রয়েছে’ উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে মিল্টনের বাবার উক্তিটি ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর:

(ক). কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

(খ). কুকুরটির সাথে লেখকের অতীতে কোন পরিচয় ছিলনা। অসুস্থ লেখক চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে আসেন এবং সেখানেই কুকুরটির সাথে তাঁর নতুন পরিচয় হয়।  পথ চলতে চলতে তিনি কুকুরটির সাথে অনেক কথা বলেন এবং সেও লেজ নেড়ে লেখকের কথার উত্তর দেয়। একসময় লেখক বাড়ি ফিরে । তারপর গেট খুলে কুকুরটিকে ভেতরে ডাকলেও সে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। নতুন পরিচয়ের দ্বিধা-সংকোচ কাটাতে না পেরে কুকুরটি ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না।

(গ). মহান সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট প্রত্যেকটি জীবেরই মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা,  মমত্ববোধ তথা ভালো ব্যবহার পাবার অধিকার রয়েছে। অবলা জীব বলেই কোন প্রাণিকে দুরে ঠেলে দিয়ে ভালো ব্যবহার থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়। কারণ, মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে সৃষ্টি করে জ্ঞান ও বিবেক দান করেছেন। অন্যান্য সৃষ্ট জীবসমূহকে সঠিকভাবে যত্ম, রক্ষণাবেক্ষণ করা মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য। প্রত্যেক ধর্মই জীব প্রেমকে পুণ্যের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। জীবজগতের মধ্যেই সৃষ্টিকর্তার মহত্ত্ব প্রকাশিত হয়। তাই গরিব-দুঃখী মানুষের দুঃখ মোচন , পীড়িত জীব জন্তুর সেবা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েই স্রষ্টার সেবা করা যায়।  জীব প্রেমেই রয়েছে ঈশ্বর প্রেমের প্রকৃত পথ।

(ঘ). সৃষ্টিকর্তা,মানুষ তথা জীব জগতের মধ্যেই বিরাজমান। সকল মানুষের মধ্যে রয়েছে সৌন্দর্য পিপাসা। এ সৌন্দর্য পিপাসা থেকেই ভালোবাসার জন্ম। সবই  স্রষ্টা  তাঁর গভীর ভালোবাসা থেকেই সৃষ্টি করেছেন। ফলে এ সৃষ্টির মধ্যে যা কিছু রয়েছে তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করলে প্রকারান্তরে স্রষ্টাকে ভালোবাসা হয়। যদিও স্রষ্টাকে আমরা চোখে দেখি না কিন্তু তাঁর সৃষ্টির বিশালতার মাঝে আমরা তাঁকে উপলব্ধি করতে পারি। তাই তাকে সেবা করতে হলে তাঁর অপার সৃষ্টি জীবকে যেমন ভালোবাসতে হবে তেমনি সেবাও করতে হবে।

উদ্দীপকে মিল্টনের বাবার উক্তিটি আমরা বিশ্লেষণ করলে বুঝতে পারি, মানুষ তার চারপাশের জীবজগৎ নিয়েই জীবন যাপন করেন। আমাদের চারপাশে যেসব প্রাণি বিরাজ করে তাদের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।  অনাথ, অসহায়, দুঃস্থ, বিপদগ্রস্ত মানুষ  যেমন ঐশ্বর্যশালী মানুষের সাহায্য প্রত্যাশা করে ঠিক তেমনি জীব-জন্তুমানুষের ভালোবাসা পেতে চায়। জীব-জন্তুকে ভালোবাসলে ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা হয়। উদ্দীপকের উক্তিটিতে শুধু আর্ত মানবতাকেই নয়, পশুপাখির মতো মূক ও অসহায় প্রাণিকেও ভালোবাসতে হবে তা প্রতিফলিত হয়েছে। মোদ্দাকথা, স্রষ্ঠার সৃষ্ট জীবকে ভালোবাসলেই  স্রষ্টাকে ভালোবাসা হয়। তাঁকে সেবা করার নামে অন্য কোনো আচার-আচরণ পরিচালনা তথা শুধু ধ্যান করেই তাঁকে খুশি করা যায় না এ কথা আমরা উদ্দীপকে মিল্টনের বাবার বলা মনীষীর উক্তি থেকে স্পষ্ট উপলব্ধি করতে পারি।

উদ্দীপক ও ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্প উভয়টিতে প্রাণির প্রতি সদয় আচরণ ও সহানুভূতি প্রকাশিত হয়েছে। কুকুরটিকে লেখক অতিথি হিসেবেই তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করার অধিকার দিয়েছে যা প্রাণির প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক।

বহু নির্বাচনি প্রশ্ন:

১। কোনটি শরৎচন্দ্রের উপন্যাস?

ক. যোগাযোগ  খ. শেষ প্রশ্ন

গ. আরণ্যক   ঘ. মাঝির ছেলে

২। ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে কোন পাখির উল্লেখ নেই?

ক. বুলবুলি   খ. দোয়েল  গ. শালিক ঘ. ময়না

৩। এক জোড়া বেনে বৌ পাখি কোন রঙের ছিল?

ক. হলুদ খ. লাল গ. সবুজ ঘ. কালো

৪। সন্ধ্যার পূর্বে কাদের ঘরে প্রবেশ প্রয়োজন হয়?

ক. বয়স্ক মহিলাদের  খ. বাতব্যাধিগ্রস্তদের

গ. বেরিবেরি রোগীদের  ঘ. বৃদ্ধদের

৫। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রেঙ্গুনে গিয়েছিলেন কেন?

ক. অফিসের কাজে খ. ব্যবসার কাজে গ. জীবিকার সন্ধানে ঘ. সাহিত্য চর্চার জন্য

৭।‘না খেয়ে যাসনে বুঝলি’ লেখক কাকে বললেন?

ক. কুকুরকে  খ. মালিকে  গ. রোগীকে ঘ. চাকরকে

৮। ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের মূল নাম কী?

ক.স্মৃতিকথা খ. দেওঘরের স্মৃতি  গ. রেঙ্গুন স্মৃতি  ঘ. কুকুর স্মৃতি

৮। লেখকের কাছ থেকে বকশিস পেল না কে?

ক. অতিথি  খ. মালি গ. চাকর ঘ. ঠাকুর

৯। লেখকের ট্রেন কখন ছিল?

ক. সকালে খ. বিকালে গ. দুপুরে ঘ. রাতে

১০। মালির স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?

ক. মালি বৌ খ. মালিনী গ. মালির বৌ  ঘ. মালাবর

উত্তর: ১. ক ২. ঘ ৩. ক ৪. খ ৫. গ ৬. ক ৭. খ   ৮. ক  ৯.গ  ১০. খ

About Tutul Rabiul

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!