Wednesday , November 21 2018
Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / “প্রিন্সেস ডায়ানা: প্রয়াণ দিনের শ্রদ্ধা”
"প্রিন্সেস ডায়ানা: প্রয়াণ দিনের শ্রদ্ধা"
"প্রিন্সেস ডায়ানা: প্রয়াণ দিনের শ্রদ্ধা"

“প্রিন্সেস ডায়ানা: প্রয়াণ দিনের শ্রদ্ধা”

নবাববার্তা ডেস্কঃ
১৯৯৭ সালের আগস্ট মাসের ৩১ তারিখে রাত সাড়ে বারোটার কাছাকাছি সময়ে মার্সিডিজ এস-২৮০ ব্র্যান্ডের একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্যারিসের অ্যালমা ব্রিজের নিচে টানেলের পিলারে সজোরে আঘাত হানে।
সে গাড়িতেই ছিলেন তর্কযোগ্যভাবে গত শতাব্দীর সবচাইতে বিখ্যাত রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়না। ছিলেন ডায়ানার দেহরক্ষী ট্রেভর জেনিস। সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একমাত্র ট্রেভর জেনিস ছাড়া কেউ প্রাণে বাঁচেনি।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ধারণা করা যায় গাড়ির পেছন পেছন ধাওয়া করা নাছোড়বান্দা পাপারাজ্জিদের পেছনে ফেলার জন্যই গাড়িচালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালান এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু আজো এটা রহস্যাবৃত রয়ে গেছে প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু কী নিছক দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড?
গাড়িচালককে দায়ী করা হয় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য। কিন্তু ডায়ানা এবং দোদি ফায়েদ কারুরই কেন সিটবেল্ট বাঁধা ছিলো না? সিটবেল্ট কি সাভোট্যাজ করা ছিল? সিটবেল্ট বাঁধা থাকলে অন্তত ডায়ানা বেঁচে যেতে পারতেন। গুজব ছড়িয়েছিলো ডায়ানা হয়তো অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার প্রেমিক দোদি ফায়েদের সন্তান ছিল ডায়ানার গর্ভে। তবে কি ইংল্যান্ডের রাজপরিবার কর্তৃক-ই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে?
ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড সীমান্তের আল্পস পর্বতের মতোই তুষার ঢাকা ধূসর কুয়াশার মতোই রহস্যে মাখা এ প্রশ্নের জবাব আজো সবার অজানা।
কিন্তু এ পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের মনে প্রিন্সেস এক অসামান্য মানুষ হিসেবে বেঁচে আছেন। কিন্তু কেনো এই অবাধ কৌতূহল সবার লেডি ডায়ানাকে ঘিরে? কেনো পৃথিবীব্যাপী সবাই রাজপরিবারকে তোয়াক্কা না করেও লেডি ডায়ানাকে বিশ্বাস করেছেন? ভালোবেসেছেন নিজেদের একজন ভেবে?
ডায়ানার জন্ম ১৯৬১ সালের ১ জুলাই। ডায়ানার জন্ম ব্রিটিশ এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। ডায়ানা বেড়ে উঠে সানড্রিনঘাম প্রদেশের পার্ক হাউসে। লেডি ডায়না তার শিক্ষাজীবন কাটায় ইংল্যান্ড এবং সুইজারল্যান্ডে। তিনি পৃথিবী ব্যাপি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তার বাগদান হয়।
লেডি ডায়ানার চার্লসের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় ১৯৭৭ সালে। যখন ডায়ানার বয়স মাত্র ১৬ বছর। তখন প্রিন্স চার্লস ডায়ানার বড় বোন লেডি সারাহ’র সঙ্গে ডেট করছিলেন। এর কিছুদিন পরই একটি সপ্তাহান্তিক গ্রীষ্মের অবকাশে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন চার্লস ডায়ানা দুজনই। সেই দেখাতেই চার্লস ডায়ানাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। ডায়ানাকেই রাজপরিবারের রাজবধূ করে নেয়ার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেন। চার্লসের এই ভালো লাগার পরিণতিই বোধহয় ডায়ানাকে এনে দেয় হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসা। প্রিন্স চার্লস ও ডায়ানার সম্পর্কটা আরো কিছুটা পরিণত হয় এক জলযাত্রা ভ্রমণে। এর কিছুদিন পরই এক আমন্ত্রণ পত্র পেয়ে রাজপরিবারে যান ডায়ানা। সময়টা তখন ১৯৮০ সালের নভেম্বর মাস। লেডি ডায়ানাকে আন্তরিকভাবে অভিবাদন জানান কুইন এবং দ্য ডিউক অব এডিনবার্গ।
পরবর্তীকালে প্রিন্স চার্লস ডায়ানাকে প্রপোজ করার কিছুদিন পরই জনসমক্ষ আড়ালে বাগদান হয় ডায়ানা-চার্লসের। ২২ বছর বয়সী ডায়ানা ওয়েলসের প্রিন্সেস হয়ে উঠেন যখন তার বিয়ে হয় প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লসের সঙ্গে।
প্রিন্স চার্লস ও ডায়ানার বিয়ের এই শুভক্ষণকে বর্ণনা করা হয় Fairytale wedding নামে। বিশ্বের প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন দর্শক এটি টেলিভিশনে উপভোগ করেন এবং ৬০০,০০০ দর্শক রাস্তায় নেমে আসেন প্রিন্স এবং প্রিন্সেসকে এক নজর দেখার জন্য।
আজকের দিনে নবাববার্তা পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি রইল প্রগাঢ় শ্রদ্ধাঞ্জলি।

About Tutul Rabiul

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!