মহাশুন্যে মুসলিম নভোচারী!

মহাশুন্যে মুসলিম নভোচারী!

মানুষের জানার আগ্রহ অনেক সে কারণেই মহাকাশ নিয়েও মানুষের গবেষণার শেষ নেই। মৃত্যুকে নিশ্চিত জেনেও মানুষ এ মহাকাশ ভ্রমণের দুঃসাহসিক অভিযানে অংশগ্রহণ করে। মহাকাশ জয়ের এ অভিযানে অবদান রাখছেন মুসলিম নভোচারীও যা অনেকেরই অজানা। আজ তেমনিই কয়েকজন গর্বিত মুসলিম মহাকাশ নভোচারির সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেবো।

#১৯৫৬ সালের ২৭ জুন সৌদি আরবে জন্ম নেয়া সুলতান বিন সালমান ২৯ বছর বয়সী প্রথম মুসলিম নভোচারী যিনি মহাকাশ ভ্রমণের সৌভাগ্য অর্জন করেন। তিনি প্রথম মুসলিম ও আরব নাগরিক হিসেবে ১৯৮৫ সালের ১৭ জুন ‘এসটিএস-৫১ জি’ মহাকাশযানে এ মহাকাশ ভ্রমণ করেন।

#১৯৫১ সালের ২৬ মে সিরিয়ায় জন্ম নেয়া ৩৬ বছর বয়সী ফারিস মোহাম্মদ ফরিস দ্বিতীয় মুসলিম মহাকাশ নভোচারী যিনি ১৯৮৭ সালের ২২ জুলাই ‘মীর ইপি-১’ মহাকাশযানে প্রথম সিরীয় নাগরিক ভ্রমণ করে অর্ডার অব লেলিন ও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

#১৯৫১ সালের ২২ মার্চ আজারবাইজানে জন্মগ্রহনকারী মুসা মানারোভ তৃতীয় মুসলিমনভোচারী যিনি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এবং ২ বার মহাকাশ ভ্রমণে অবস্থান করে মোট ৫৪১ দিন মহাকাশে অবস্থান করেন তিনি। তিনি ১৯৮৭ সালে ‘মীর নিউ-৩’ মহাকাশযানে প্রথম বার এবং দ্বিতীয়বার ১৯৯০ সালে ‘সুয়েজ টিএম-১১’তে মহাকাশ ভ্রমণ করেন।প্রথমবার মহাকাশ ভ্রমণের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৩৬ বছর। তিনিও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন ও অর্ডার অব লেলিনসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।

#১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি আফগানিস্তানে জন্মগ্রহনকারী আবদুল আহাদ মোহামান্দ ৪র্থ মুসলিম এবং প্রথম আফগান হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৮৮ সালের ২৯ আগস্ট ‘মীর ইপি-৩’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। মহাকাশ ভ্রমণের সময় তার বয়স ছিল ২৯ বছর। তিনি মহাকাশে ৯ দিন অতিবাহিত করেন। তিনিই প্রথম মহাকাশ নভোচারী যিনি মহাকাশে পবিত্র কুরআনুল কারিম নিয়ে ভ্রমণ করেন।

#১৯৪৬ সালের ২৭ জুলাই কাজাখাস্তানে জন্ম নেয়া ৪৫ বছর বয়সী তোক্তার আউবাকিরভ পঞ্চম মুসলিম ও প্রথম কাজাখাস্তানী হিসেবে তিনি ১৯৯১ সালের ২ অক্টোবর ‘সুয়েজ এম-১৩’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। তাকেও হিরো অব দ্য কাজাখাস্তান ও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন পুরস্কারসহ আরও বেশ কিছু সংস্থা কর্তৃক মহাকাশবিষয়ক সম্মাননায় দেয়া হয়।

#১৯৫১ সালের ৭ জানুয়ারি কাজাখাস্তানে জন্ম নেয়া তালগাত মুসাবায়েভ ৪৩ বছর বয়সে ৬ষ্ঠ মুসলিম ও কাজাখাস্তানের দ্বিতীয় নভোচারী হিসেবে জীবনের প্রথমবার ১৯৯৪ সালের ৪ নভেম্বর, দ্বিতীয়বার ১৯৯৮ সালের ২৫ অগস্ট এবং তৃতীয় বার ২০০১ সালের ৬ মে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ৩ বারের মহাকাশ ভ্রমণে তিনি ৩৪১ দিন ৯ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট অবস্থান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময় মহাকাশে অবস্থানের রেকর্ডধারী খেতাব পান। তিনি কাজাখাস্তান জাতীয় মহাকাশ সংস্থার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

#সপ্তম মুসলিম নভোচারি সালিজান শারিপভ ১৯৬৪ সালের ২৪ আগস্ট রাশিয়ায় মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৯৮ সালের ২০ জানুয়ারি ‘এসটিএস-৮৯’মহাকাশযানে প্রথমবার এ ভ্রমণ করেন। তিনি ২ বারের মহাকাশ ভ্রমণে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০১ দিন মহাকাশে অবস্থান করেন। দ্বিতীয়বার ২০০৪ সালের ১৪ অক্টোবরে তিনি মহাকাশ ভ্রমণ করেন। জন্ম নেয়া এ নভোচারী সর্বপ্রথম ৩৪ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি হিরো অব দ্য রাশিয়ান ফাউন্ডেশন পুরস্কার লাভ করেন। কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের উজবেক জাতীয়তাবাদী প্রথম মহাকাশ নভোচারীর তালিকায়ও তিনি নাম লেখান।

#অষ্টম ব্যক্তি হিসেবে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে আনুশেহ আনসারি প্রথম সুয়েজ টিএমএ-৯’ মহাকাশযানে ২০০৬ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর এ মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ব্যক্তিগত খরচে মহাকাশ ভ্রমণকারী প্রথম নারী ও চতুর্থ ব্যক্তি। ১৯৬৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ইরানে জন্ম নেয়া আমেরিকান নাগরিক আনুশেহ ৪০ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোক্তা অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ও ইয়াং এন্টারপ্রেনিয়ার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডসসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।

#শেখ মুসজাফার শুকুর (মালয়েশিয়া) মহাকাশ নভোচারী মালয়েশিয়ান নাগরিক শেখ মুসজাফর। নবম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ২০০৭ সালের ১০ অক্টোবর ‘সুয়েজ টিএমএ-১১’ মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। নভোচারী মুসজাফার শুকুর মহাকাশে সর্বপ্রথম নামাজ আদায় করেন এবং নামাজের সে দৃশ্য ভিডিও প্রচার করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালে জন্ম নেয়া এ মালয়েশিয়ান মহাকাশে ১০ দিন ২০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট অবস্থান করেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৫ বছর।

#আইদিন আইমবেটোভ (কাজাখাস্তান) কাজাখাস্তানের তৃতীয় নাগরিক হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন দেশটির এয়ার ফোর্সের মেজর জেনারেল আইদিন আইমবেটোভ। তিনিই প্রথম মহাকাশে কাজাখাস্তানের পতাকা বহন করেন। ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর ‘সুয়েজ টিএমএ-১৮এম’ মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। নভোচারী আইদিন মহাকাশে ৯ দিন ২০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট অবস্থান করেন। ১৯৭৮ সালের ২৭ জুলাই জন্ম নেয়া এ নভোচারীর মহাকাশ ভ্রমণের সময় বয়স ছিল ৩৭ বছর।

#মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ নভোচারী হলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নাগরিক হাজ্জা আল-মানসুরি। তিনি ‘সুয়েজ এমএস-১৫’ নামক মিশনে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহাকাশ ভ্রমণে গিয়ে ৩ অক্টোবর ফিরে এসেছেন।

তারা সকলেই মুসলিম ও বিশ্বের জন্য গর্ব এবং আমাদের জন্য অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।