কে হচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক?

কে হচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক?

টুটুল রবিউলঃ

আগামী ৩ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন। এদিন নির্ধারিত হবে কারা জেলা আওয়ামীলীগের হাল ধরবে। এনিয়ে শুরু হয়েছে আনাগোনা। বিতর্কিত নেতারা এরই মধ্যে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। ত্যাগী কর্মীবান্ধব নেতারা এখন লাইমলাইটে। সম্মেলনকে ঘিরে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করায় ত্যাগী নেতা-কর্মীরা নেত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

শুদ্ধি অভিযান, আওয়ামী লীগের বহিরাগতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং সর্বপরি দলের কাউন্সিলকে ঘিরে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, দলে যারা ত্যাগী পরীক্ষিত এবং যারা দীর্ঘদিন ধরে অনাদরে অবহেলায় ছিলেন, তারাই এখন আলোচনায়। বিশেষ করে যে সমস্ত নেতাকর্মীরা দলে সুবিধাবাদীদের ভিড়ে প্রায় কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। তারা এখন সক্রিয় হয়েছেন এবং তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগ অফিস। আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এটাকেই আওয়ামীলীগের প্রাণশক্তি বলে অবিহিত করেছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তৃণমুলই হল আওয়ামীলীগের প্রাণ এবং মুলশক্তি। তারা যেন দলীয় কর্মকান্ডে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলেন ত্যাগী পরীক্ষিতদের সামনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগে যারা দুষিত রক্ত তাদের বের করে দিয়ে দলে সুষ্ঠু এবং সুন্দর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমেই কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ নতুন রুপে আত্মপ্রকাশ করবে। একাধিক দায়িত্বশীল সুত্রে জানা যায়, আওয়ামীলীগের তৃণমুল যাতে শক্তিশালী হয় ও ত্যাগী পরীক্ষিতরা যেন দায়িত্বশীল পদ পায় সেজন্য একাধিক দলীয় বৈঠক করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন উপলক্ষে এরও মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে কে হচ্ছেন, জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক?

 সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব মঈনুদ্দীন মন্ডল, সাবেক এমপি জিয়াউর রহমান জিয়া, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব রুহুল আমিন, সাবেক এমপি ব্রিগেডিয়ার এনামুল হকের নাম শুনা যাচ্ছে।

সভাপতি কে হচ্ছেন?

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মঈনুদ্দীন মন্ডল বয়সের ভারে স্বাভাবিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারছেননা।তিনি বার্ধক্যসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন।তবে দলে তার অবদান অনস্বীকার্য্ । দলের তৃণমুলের ধারণা সভানেত্রী সম্মান দেখিয়ে আবারও তাকে সভাপতি করলে অবাক হবার কিছু নেই। তবে জেলার সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি ব্রিগেডিয়ার এনামুল হকের নামও শুনা যাচ্ছে।

কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক?

মেসবাহুল সাকের জ্যোতি, ডাঃ গোলাম রাব্বানী, আব্দুল ওদুদ ও ডাঃ সামিল উদ্দীন আহমেদ সিমুল এমপি জেলা সাধারণ সম্পাদক হবার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

মেসবাহুল সাকের জ্যোতি

সাধারণ সম্পাদকের দৌড়ে সবদিক দিয়ে এগিয়ে প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা মেসবাহুল হক বাচ্চু ডাক্তারের পুত্র মেসবাহুল সাকের জ্যোতি। জ্যোতি তার পিতার হাত ধরেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক জ্যোতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক। দলীয় সভানেত্রীর মুল্যায়নে সাধারণ সম্পাদক হবার যোগ্যতায় সবার চেয়ে এগিয়ে আছে মেসবাহুল সাকের জ্যোতি। দলীয় ইমেজ, ব্যক্তি ইমেজ, পরীক্ষিত নেতা হিসেবে জ্যোতির বিকল্প কেউ নেই বলে ধারণা তৃণমুল নেতা-কর্মীদের। তৃণমুলের ধারণা জ্যোতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে, জেলার ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মুল্যায়ন হবে। জ্যোতি ক্লীন ইমেজের এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক হওয়ায় তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে জেলায় আওয়ামীলীগের দলীয় অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। দলীয় ভাবমুর্তি রক্ষায়, দলকে সুসংগঠিত করা, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মুল্যায়ন এবং জেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় জ্যোতির কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য জেলা আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের।

ডাঃ গোলাম রাব্বানী

পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক। চিকিৎসক নেতা হিসেবেও তিনি জেলায় জনপ্রিয়।ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে সুপরিচিত।বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে জেলা আওয়ামীলীগের বহুবিভক্তি ভেঙ্গে এক কাতারে নিয়ে আসার জন্য তিনি সরকারি চাকুরি ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে এমপি হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় হাইকমান্ড তাকে মনোনয়ন না দিলেও তিনি নৌকার প্রার্থী আব্দুল ওদুদের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে থাকায় কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। জেলায় দলীয় কোন পদে না থাকায় তিনি আসন্ন সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করবেন বলে এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। ক্লীন ইমেজের ব্যক্তি পরিচয়ে এবং দলীয় কর্মকান্ডে তার সরব উপস্থিতি, তাকে সাধারণ সম্পাদক পদে অনেকটা এগিয়ে রাখছেন নেতা-কর্মীরা।

সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের দুই দুইবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ। তার ১০ বছরে জেলায় অনেক উন্নয়ন হলেও তিনি জেলা আওয়ামীলীগে বহুবিভক্ত এবং কোন্দলে নিমজ্জিত করেছেন বলে অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীর অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি দলীয় ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মুল্যায়ন না করে জেলায় জামাত-বিএনপিকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে বিশাল ব্যবধানে পরাজয় বরণ করে এখন দলীয়ভাবে অনেকটা ব্যাকফুটে।এরই মধ্যে কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম আর দূর্ণীতির অভিযোগ এনে খবর প্রকাশ হয়েছে। এসব কারণে তিনি দলীয় হাই কমান্ড এবং জেলা আওয়ামীলীগের মধ্যে একজন বিতর্কিত নেতা হিসেবে আখ্যায়িত। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকায় কিছুটা হলেও নিজের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন। আসন্ন ৩ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি অনেকটা পিছিয়ে আছেন বলে বিজ্ঞজনের ধারণা। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি তাকে মুল্যায়িত করে সাধারণ সম্পাদকের পদে আবারও রাখেন তবে জেলায় আওয়ামীলীগের বিভক্তি প্রকট আকার ধারণ করবে বলে ধারণা ত্যাগী নেতা-কর্মীদের।

ডাঃ সামিল উদ্দীন আহমেদ শিমুল এমপি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় জাতীয় সংসদের তিনটি আসনের মধ্যে একমাত্র তিনিই দলীয় সংসদ সদস্য। তার পিতা একজন আওয়ামীলীগের নিবেদিত নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে তার পিতা মঈনুদ্দীন আহমেদ মন্টু ডাক্তারের সখ্যতা ছিল।দলের একমাত্র সংসদ সদস্য এবং দলীয় ইমেজে তিনিও সাধারণ সম্পাদক পদে একজন শক্তিশালী প্রার্থী। দলীয় সভানেত্রী তার হাতে জেলার সাধারণ সম্পাদকের পদ তুলে দিতেও পারেন। তবে সংসদ সদস্য হবার পর এরই মধ্যে তিনি দলীয় কোন্দল, সোনামসজিদ স্থল বন্দরে দুর্ণীতিসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হবার পর তিনি দলীয় হাইকমান্ডে বিরাগভাজন হয়েছেন বলে অনেকের ধারণা।

তবে আগামী ৩ ডিসেম্বর কে হচ্ছেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, তা দেখতে অপেক্ষায় থাকতে হবে। এরই মধ্যে দলীয় নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ পছন্দের ব্যক্তির পক্ষে মাঠে কাজ শুরু করেছেন। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনে ত্যাগী, ক্লীন ইমেজের এবং পরীক্ষিত কর্মীবান্ধব নেতার হাতে জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ তুলে দিবেন বলে জেলার নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা।